শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১১

ছাত্রলীগ কোম্পানীগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

ছাত্রলীগ কোম্পানীগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সম্মেলনের তাগিদ দেয়ার পরও সম্মেলন না করায় মেয়াদ উত্তীর্ণ এ দুই উপজেলা কমিটিকে জেলা ছাত্রলীগের কার্যকরি কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাতিল করা হয়। গত বুধবার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থ, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন খান ও দপ্তর সম্পাদক এম এ নিজাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় কোম্পানীগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের দীর্ঘদিন থেকে কোন সম্মেলন হয়নি। দুই উপজেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে সম্মেলন করার জন্য জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তারিখ নির্ধারণ করে দেয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত তারিখ চলে গেলেও তারা সম্মেলন করতে পারেনি। তাই, জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে এবং কোম্পানীগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের দাবীর প্রেক্ষিতে নতুন কমিটি গঠনের জন্য পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয় জেলা ছাত্রলীগ মনোনীত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কিছু দিনের মধ্যে ত্যাগী ও মেধাবীদের নিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থ জানান, জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন ২৯ বছরের বেশী বয়সের কেউ ছাত্রলীগে থাকতে পারবেনা। এই দুই উপজেলায় দীর্ঘদিন থেকে সম্মেলন না হওয়ায় নেতৃবৃন্দের অনেকের বয়স ২৯ বছরের উপরে চলছে। তাই এদের দিয়ে ছাত্রলীগ চলে না। তাছাড়া নতুন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসার জন্য ত্যাগী ও মেধাবীদের নিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করার জন্য এই দুই উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে। এদিকে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করায় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থ, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন খান এবং দপ্তর সম্পাদক নিজাম উদ্দিন সহ জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানিয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ। উপজেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষরিত এক অভিনন্দন বার্তায় বলা হয়, দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর পর উপজেলা ছাত্রলীগের নয়া কমিটি গঠিত হবে বলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। অভিনন্দন বার্তায় যথা শিঘ্রই সম্মেলন প্রস্ত্ততি কমিটি গঠন পূর্বক আগামী নভেম্বরের মধ্যে উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠান আয়োজনের দাবী জানিয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অভিনন্দন জ্ঞাপনকারীরা হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমদ, সাবেক সহ সম্পাদক শামসুল আলম, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা এখলাছ উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম হামিম, সফাত উল্লাহ, জামাল উদ্দিন, সাচ্চা মিয়া মোস্তাকিম, মমিনুল ইসলাম ইয়ামিন, সুদীপ রায়, সিংকন বিশ্বাস, দিলোয়ার হোসেন, জুয়েল রানা, আনোয়ার হোসেন, আমজাদ আলী, আতিকুর রহমান সুজন, সুমন আহমদ, ফয়ছল আহমদ, তারেক আহমেদ, সিরাজুল হক, ফারুকুজ্জামান, মিনহাজুল ইসলাম, কামাল হোসেন, কাওছার আহমদ টিটু, কবির হোসেন, হারুনুর রশিদ, বাবুল, রিপন আহমদ, মোঃ শিপন, জুবেল আহমদ জুয়েল, প্রিন্স দেবনাথ, নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

ফেঞ্চুগঞ্জের ৫ ইউনিয়নে নির্বাচন অধীর আগ্রহে ভোটাররা

হাসান চৌধুরী, ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) থেকে : ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৫ ইউনিয়নে নির্বাচন শিগগিরই হতে যাচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যেই নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জেলা নির্বাচন অফিসার শামসুল আলম জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন থেকে ইতিমধ্যে অনুমতি দেয়া হয়েছে। জেলা নির্বাচনী অফিস নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পরপরই এ উপজেলায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে। আসন্ন ঈদ ও পরীক্ষাকে সামনে রেখেই বৈঠকে তফসিল ঘোষণার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ৩টি ইউনিয়ন থেকে ৫টি ইউনিয়নে উন্নীত করার লক্ষ্যে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়। ৫টি ইউনিয়নে রুপান্তরিত হওয়ার ফলে নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা বাকি থাকাতে ফেঞ্চুগঞ্জে ইউপি নির্বাচন বিলম্বিত হয়। নবগঠিত ২টি ইউনিয়নসহ ৫টি ইউনিয়নের বিপরীতে ফেঞ্চুগঞ্জে প্রায় ৩ ডজন চেয়ারম্যান প্রার্থী দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এরা হলেন- ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান জাহিরুল ইসলম মুরাদ (বিএনপি), রাজু আহমদ রাজা (আওয়ামী লীগ), সাবেক চেয়ারম্যান শুকুর উদ্দীন আহমদ (জাতীয় পার্টি), হাজী বিলাল আহমদ (স্বতন্ত্র), মনোহর আলী (বিএনপি), বর্তমান ইউপি সদস্য শিব্বির আহমদ (আওয়ামী লীগ), সাহিল আহমদ (আওয়ামী লীগ), আবদুল কাদির খান (আওয়ামী লীগ), জয়নাল আবেদীন (আওয়ামী লীগ) ও জয়ফুর রহমান পারভেজ (বিএনপি)। মাইজগাঁও ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাসিত (বিএনপি), সাবেক চেয়ারম্যান ছুফিয়ানুল করীম চৌধুরী (বিএনপি), ইমরান আহমদ চৌধুরী (জামায়াত), জুবেদ আহমদ চৌধুরী (আওয়ামী লীগ), শিব্বির আহমদ মিটু (আওয়ামী লীগ), শাহিন আহমদ চৌধুরী (স্বতন্ত্র)। ঘিলাছড়া ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান মো. আফতাব আলী (বিএনপি), লেইছ চৌধুরী (আওয়ামী লীগ), আবদুস সালাম আজাদ (জামায়াত), বিজন কুমার দেবনাথ (আওয়ামী লীগ), নবগঠিত উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান (বিএনপি), যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা মুজিবুর রহমান মুজিব (আওয়ামী লীগ), যুক্তরাজ্য প্রবাসী কালাম মতিন লুলু (স্বতন্ত্র), যুক্তরাজ্য প্রবাসী নানু মিয়া (বিএনপি), হান্নান চৌধুরী (বিএনপি), ফখরুল ইসলাম (জামায়াত)। উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নে নুরুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), আইনজীবী এডভোকেট জসিম উদ্দিন (আওয়ামী লীগ), যুক্তরাজ্য প্রবাসী এমরান উদ্দীন (বিএনপি), ইউপি সদস্য তোতা মিয়া (আওয়ামী লীগ), ফয়সল আজাদ খান (আওয়ামী লীগ), ফয়জুল ইসলাম ককন (স্বতন্ত্র), শহীদুল ইসলাম টিপু সুলতান (আওয়ামী লীগ), সানজিদ আলী (স্বতন্ত্র), সাবেক মেম্বার জিল্লুর রহমান (আওয়ামী লীগ), জয়নাল মিয়া (আওয়ামী লীগ), কয়েছুজ্জামান কয়েস (বিএনপি)। ৫ ইউনিয়নের বেশিরভাগ ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে বোঝা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে বিশেষ করে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ক্ষেত্রে দলীয় প্রভাব, অর্থের দাপট ইত্যাদি ধোপে টিকবে না। এক্ষেত্রে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তির প্রতি ভোটারদের আকর্ষণ বেশি।

মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১১

ফেঞ্চুগঞ্জে দোকানের ভেতর ট্রাক ১জন নিহত

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে একটি ট্রাক দোকানের ভেতর উঠে গেলে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়েছে। মর্মান্তক এই ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার (২৫/১০) দুপুরে উপজেলার পুরান বাজার এলাকায়। নিহত ব্যক্তি দোকান মহাজন বাদাই মিয়া (৫০) ফেঞ্চুগঞ্জের ওয়াপদা বশির কলোনীর আরজান আলীর পুত্র।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, পুরানবাজারের সড়কের পাশে একটি ডায়না ট্রাক রেখে চালক সাজু মিয়া চা খেতে যান। এ সময় ট্রাকের ভেতর থাকা হেলপার গাড়িটিকে স্টার্ট দিতে গেলে ট্রাকটি দ্রুত নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সামনের একটি দোকানের ভেতর গিয়ে ঢুকে পড়ে। সাথে সাথে লোকজন দোকানের ভেতর থেকে মুর্মুষ অবস্থায় ঐ দোকানের মহাজন বাদাই মিয়াকে উদ্ধার করে। তৎক্ষণাত তাকে  সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে পাঠালেও পথিমধ্যেই বাদাই মিয়ার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হেলাপার শাহাজাহান আহত হয়েছে। খবর পেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল গনি জানান, এ ঘটনায় জড়িত দোষী ব্যক্তিদের বিরোদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হাসান চৌধুরী

শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১১

ফেঞ্চুগঞ্জে ইউপি নিবাচন যে কারনে একটু পেছাতে পারে


হাসান চৌধূরী
বহু প্রতিক্ষিত ফেঞ্চুগঞ্জের ইউনিয়ন পরিষদ নিবাচন শেষ মুহুতে এসেও কিছুটা বিলম্বে অনুষ্টিত হতে পারে। ইতোমধ্যে এই উপজেলার নবগঠিত ২টি ইউনিয়নসহ মোট ৫টি ইউনিয়নের ভোটার লিস্ট ও ৪৫টি কেন্দ্রসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নিবাচন কমিশন জেলা নিবাচন অফিসকে নিবাচন সম্পন্নের জন্য আদেশও প্রদান করেছে। সেই লক্ষে চলতি সপ্তাহে জেলা প্রশাসকের কাযালয়ে নিবাচন সংশ্লিস্ট সবার উপস্থিতিতে এক বৈঠক অনুষ্টিত হয়। সে বৈঠকে আগামী 23/10/11 থেকে 02/11/11 পযন্ত মনোয়নপত্র জমা এবং 17/11/11 বাছাই, 19/11/11 প্রত্যাহার ও 03/12/11 নিবাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নিধারণ করা হয়েছিল। বৈঠক সুত্র জানায় পরে উল্লখিত তারিখে নিবাচন সম্পন্নে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সিলেট জেলা নিবাচন অফিসার শামসুল আলম জানান, সামনে ঈদ, ডিগ্রী পরীক্ষঅ, জেএসসি, বাষিক পরীক্ষা থাকাতে উল্লেখিত তারিখে নিবাচন সম্পন্নে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। তিনি বলেন এ ব্যাপারে আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের গোড়ার দিকে আবার বৈঠকে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
21/10/11
হাসান চৌধূরী
বহু প্রতিক্ষিত ফেঞ্চুগঞ্জের ইউনিয়ন পরিষদ নিবাচন শেষ মুহুতে এসেও কিছুটা বিলম্বে অনুষ্টিত হতে পারে। ইতোমধ্যে এই উপজেলার নবগঠিত ২টি ইউনিয়নসহ মোট ৫টি ইউনিয়নের ভোটার লিস্ট ও ৪৫টি কেন্দ্রসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নিবাচন কমিশন জেলা নিবাচন অফিসকে নিবাচন সম্পন্নের জন্য আদেশও প্রদান করেছে। সেই লক্ষে চলতি সপ্তাহে জেলা প্রশাসকের কাযালয়ে নিবাচন সংশ্লিস্ট সবার উপস্থিতিতে এক বৈঠক অনুষ্টিত হয়। সে বৈঠকে আগামী 23/10/11 থেকে 02/11/11 পযন্ত মনোয়নপত্র জমা এবং 17/11/11 বাছাই, 19/11/11 প্রত্যাহার ও 03/12/11 নিবাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নিধারণ করা হয়েছিল। বৈঠক সুত্র জানায় পরে উল্লখিত তারিখে নিবাচন সম্পন্নে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সিলেট জেলা নিবাচন অফিসার শামসুল আলম জানান, সামনে ঈদ, ডিগ্রী পরীক্ষঅ, জেএসসি, বাষিক পরীক্ষা থাকাতে উল্লেখিত তারিখে নিবাচন সম্পন্নে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। তিনি বলেন এ ব্যাপারে আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের গোড়ার দিকে আবার বৈঠকে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১১

কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি উত্থান পতন

কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি। পুরো নাম মুয়াম্মার আবু মিনার আল গাদ্দাফি। কারও কাছে তিনি একনায়ক, স্বৈরশাসক। কারও কাছে অতি জনপ্রিয় ‘ব্রাদারলি লিডার’। দীর্ঘ প্রায় ৪২ বছর তিনি এক হাতে শাসন করছেন উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া। একনায়ক হলেও এর মধ্যে তিনি দেশে ও বিদেশে কুড়িয়েছেন সুনাম। আবার তাকে নিয়ে বিতর্কেরও শেষ নেই। ১৯৪২ সালের ৭ই জুন সিতর এলাকার কাছে একটি বেদুইন পরিবারে তার জন্ম। কিশোর বয়সেই তিনি ছিলেন মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসেরের ভক্ত ও তার আরব সমাজবাদের ভক্ত। জাতীয়তাবোধের আদর্শে তিনি উজ্জীবিত। ১৯৫৬ সাল থেকে তিনি ইসরাইলবিরোধী অবস্থান নেন। ১৯৬৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর জুনিয়র একটি দলকে নিয়ে রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করেন বাদশা ইদ্রিসকে। ওই সময় বাদশা ইদ্রিস চিকিৎসার জন্য ছিলেন তুরস্কে। এর পর বাদশার ভাইপো যুবরাজ সাঈদ হাসান অর রিদা আল মাহদিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয় একদল বিপ্লবী সেনা কর্মকর্তা। রিদা আল মাহদিকে করা হয় গৃহবন্দি। এভাবে মুয়াম্মার গাদ্দাফির নেতৃত্বে লিবিয়া রাজতন্ত্র মুক্ত হয়। লিবিয়াকে ঘোষণা করা হয় ‘লিবিয়ান আরব রিপাবলিক’। তখন গাদ্দাফির বয়স মাত্র ২৭ বছর। সাফারি স্যুট ও সানগ্লাস পরা গাদ্দাফি যেন হয়ে ওঠেন আরেক চে গুয়েভারা। এর মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ওঠে পশ্চিমাবিরোধী একটি শক্তি। ১৯৭০ সালে তিনি লিবিয়া থেকে ইতালিয়ানদের তাড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। এর ফলে লিবিয়া থেকে ইতালীয়রা প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়। এমন সময় দেশ চালাতে গঠন করা হয় রেভ্যুলিউশনারি কমান্ড কাউন্সিল। এর চেয়ারম্যান করা হয় গাদ্দাফিকে। ১৯৭০ সালে তার নামের সঙ্গে যোগ করা হয় প্রধানমন্ত্রী খেতাব। তবে সেই পদে তিনি বেশি দিন থাকেননি। ১৯৭২ সালেই ওই খেতাব বাদ দেন। অন্য সামরিক বিপ্লবীদের মতো গাদ্দাফি ক্ষমতা দখল করেও নিজেকে জেনারেল হিসেবে ঘোষণা দেননি। তিনি ছিলেন ক্যাপ্টেন। ক্ষমতা দখল করার পর সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তিনি কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। তার পর থেকে তিনি সেই কর্নেল পদেই বহাল ছিলেন। একজন কর্নেল দেশ শাসন করেন এমন ঘটনা পশ্চিমা দুনিয়ায় বিরল। গাদ্দাফি তার দেশের জন্য একটি স্লোগান চালু করেন। তা হলো লিবিয়া ‘জনগণ কর্তৃক পরিচালিত’। এজন্য সাড়ম্বরে তার কোন পদবি দরকার হয়নি। সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদ তার দরকার হয়নি। ১৯৭৭ সালে তিনি ঘোষণা দেন লিবিয়া তার সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনছে। প্রজাতন্ত্র থেকে লিবিয়া পরিণত হচ্ছে জামাহিরিয়ায়। এর অর্থ লিবিয়া হলো জনমানুষের সরকারের দেশ। বাস্তব অর্থে লিবিয়া পরিণত হয় গণতান্ত্রিক সরকারের দেশে। জনগণই এর শাসক। এজন্য গঠন করা হয় বিভিন্ন কাউন্সিল ও স্বশাসিত ক্ষুদ্রতম এলাকা। আর সব কাঠামোর ওপরে রাখা হয় জেনারেল পিপলস কংগ্রেস। এর সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি। কিন্তু দুই বছর পরই গাদ্দাফি সরকার থেকে তার পদ ত্যাগ করেন। দেশকে দেন সমঅধিকারের দর্শন। মাঝেমধ্যেই তিনি অভ্যন্তরীণ ও অন্য দেশের বিষয়ে কঠোর মন্তব্য করেন। বিদেশে বসবাসকারী ভিন্নমতাবলম্বী লিবিয়ানদের ১৯৮০ সালের এপ্রিলে হত্যা করার আহ্বান জানায় তার রেভ্যুলিউশনারি কমিটি। এজন্য লিবিয়ার হিট স্কোয়াডকে বিদেশে পাঠানো হয় তাদেরকে হত্যা করার জন্য। ১৯৮০ সালের ২৬শে এপ্রিল গাদ্দাফি ওইসব ভিন্নমতাবলম্বীকে দেশে ফিরে আসার জন্য ১৯৮০ সালের ১১ই জুন পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেন। বলা হয়, তারা দেশে ফিরে না গেলে তুলে দেয়া হবে রেভ্যুলিউশনারি কমিটির হাতে। ওই সময়ে হত্যা করা হয় মোট ৯ লিবিয়ানকে। এর মধ্যে ৫ জনকে হত্যা করা হয় ইতালিতে। মিশরের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদেল নাসেরের আরব দর্শনের তিনি ছিলেন ভীষণ ভক্ত। একই সঙ্গে তিনি আরব রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে এক আরব গঠনের জোর পরামর্শ দেন। ১৯৭০ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর জামাল নাসের মারা যান। কিন্তু তার আদর্শের শিখা জ্বালিয়ে রাখেন গাদ্দাফি। তিনি ১৯৭২ সালে ‘ফেডারেশন অব আরব রিপাবলিকস’ ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে তিনি একটি একীভূত আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আশা করেছিলেন। কিন্তু সে আহ্বানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তিনটি দেশ। ফলে একীভূত আরব গঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এ লক্ষ্যে তিনি ১৯৭৪ সালে তিউনেসিয়ার হাবিব বারগুইবার সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। কিন্তু সে উদ্যোগও ব্যর্থ হয়। আউজোউ উপত্যকা নিয়ে প্রতিবেশী দেশ চাদের সঙ্গে লিবিয়ার বেশ কয়েকবার উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। লিবিয়া ওই উপত্যকা দখল করে ১৯৭৩ সালে। আপত্তি ওঠে তা নিয়েই। এ নিয়ে একবার যুদ্ধও হয়েছে। পরে তা ১৯৮৭ সালে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়। ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের ১৯৯৪ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারির এক রায়ের ফলে চাদ থেকে লিবিয়া সেনাদের প্রত্যাহার করে নেয়। গাদ্দাফি ফিলিস্তিনের ‘প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন’-এর একজন ভক্তে পরিণত হন। তবে পশ্চিমাবিরোধী নীতির কারণে গাদ্দাফিকে পশ্চিমারা সব সময়ই নেতিবাচক চোখে দেখেছে। কূটনৈতিক অঙ্গনেও তার প্রতি দৃষ্টি তেমনই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সময় লিবিয়ার সঙ্গে পশ্চিমাদের সম্পর্কে টান টান উত্তেজনা দেখা দেয়। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার প্রশ্নে গাদ্দাফির আপসহীন অবস্থানের কারণে ওই সময় পশ্চিমা শক্তিগুলো মিলে গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করে। রোনাল্ড প্রশাসন লিবিয়াকে একটি ‘যুধ্যমান বদমাশ রাষ্ট্র’ বলে অভিহিত করে। রোনাল্ড রিগ্যান নিজেই গাদ্দাফিকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের পাগলা কুকুর’ বলে অভিহিত করেন। ১৯৮১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার নাগরিকদের লিবিয়া সফর বাতিল করতে তাদের পাসপোর্ট অকার্যকর করে দেয়। ১৯৮২ সালের মার্চে লিবিয়ার তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে লিবিয়ার তেল শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। ১৯৮৪ সালে গাদ্দাফিবিরোধী এক র‌্যালিতে দায়িত্ব পালনের সময় লন্ডনে অবস্থিত লিবীয় দূতাবাসের বাইরে বৃটিশ কনস্টেবল ইভোনি ফ্লেচারকে গুলি করা হয়। এতে কয়েক দশক বৃটেনের সঙ্গে লিবিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন থাকে। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গাদ্দাফিকে হত্যার চেষ্টা চালায় বৃটেনের গোয়েন্দা সার্ভিস। ওই সময় তির শহরের কাছে তার মোটর বহরে হামলা চালানো হয়। ওই অভিযানকে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবিন কুক একটি ‘খাঁটি ফ্যানটাসি’ বলে বর্ণনা করেন। ২০০৯ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবি বোমা হামলায় অভিযুক্ত মেগরাহিকে দেশে স্বাগত জানান গাদ্দাফি। ২০০৯ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেন তিনি। সেখানে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে। আস্তে আস্তে একের পর এক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকেন তিনি। গত ২৩শে আগস্ট বিদ্রোহীরা তার বাব আল আজিজিয়া প্রাসাদ দখল করে নেয়। সেখান থেকে তার আগেই পালিয়ে যান মুয়াম্মার গাদ্দাফি ও তার পরিবারের সদস্যরা। এর মধ্য দিয়েই মূলত গাদ্দাফির পতন ঘটে। তারপরও তার অনুগতরা লড়াই চালিয়ে যেতে থাকে। সর্বশেষ তারা তার জন্মশহর সির্তে অভিযান চালায়। সেই অভিযানেই গতকাল গুলিবিদ্ধ হন গাদ্দাফি।

গাদ্দাফি নিহত

লিবিয়ার কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির মরদেহ মিসরাতা শহরের একটি মসজিদে রাখা হয়েছে বলে আল জাজিরার খবরে জানানো হয়েছে।

আল আরাবিয়া টেলিভিশন জানিয়েছে, গাদ্দাফির মরদেহ মিসরাতায়। তবে শহরের সুক তাওয়ানসা এলাকার একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রাখা হয়েচে বলে উল্লেখ করেছে তারা।

লিবিয়ার জাতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের (এনটিসি) বৃহস্পতিবার গাদ্দাফির নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ সময়: ২১২০ ঘণ্টা, অক্টোবর ২০, ২০১১




শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১১

ফেঞ্চুগঞ্জে বাস-টেম্পুর সংঘর্ষে নিহত ১


ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে দ্রুতগামী বাস ওভারটেক করতে গিয়ে টেম্পুকে চাপা দিলে একজন নিহত ও ২জন আহত হয়েছেগতকাল (১৫/১০) শনিবার দুপুরে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের কটালপুরবাজারে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, কুলাউড়া থেকে ছেড়ে আসা সিলেটমুখী  যাত্রীবাহী বাস মৌলভীবাজার (জ-১১-০২২৫) ও ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া সিলেটমুখী টেম্পু (সিলেট ফ-১১-০১৯১) কে ওভারটেক করার সময় চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই টেম্পুর চালক ও ওপর দুইজন যাত্রী মারাত্মক আহত হনস্থানীয় জনতা তাদেরকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নেওয়ার পথে টেম্পু যাত্রী মো: নুনু মিয়া মৃত্যুবরন করেনিহত ব্যক্তি ফেঞ্চুগঞ্জের কটালপুরের উত্তর পাড়ার আফতাব আলীর পুত্রএ ঘটনায় অপর আহত দুইজন হল নিহতের ভাই টেম্পু চালক নান্নু মিয়া ও কটালপুরের পালপাড়ার মতি বর্ধনতাদেরকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছেদুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসের চালক পালিয়ে গেলেও বাসটিকে এলাকাবাসী আটক করেছেখবর পেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে
এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় কেউ কোন অভিযোগ দায়ের না করলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে